Kothay Tip!!!

Did you know your participation in Blog posts can get you points? Create, Like, and Comment to increase your points!!! Also, get a chance to win exciting prizes by participating in the kothay competition. Click here for more! Register or Sign in now to enjoy!!!



Tags
মায়াবী জগৎ (1)  office (1)  las cavernas de marmol (1)  lifestyle and places (1)  ptc (1)  tips (2)  beauty tips (3)  নারী (1)  impression (1)  কমলগঞ্জ (1)  aple (1)  কিওক্রাডাং (1)  travel (1)  the cave (1)  শোলাকিয়া (1)  বেলাই বিল (1)  sylet (1)  lancetech.com (1)  চিনি মসজিদ (1)  আলাদীন পার্ক (1)  ত্বকের পরিচর্যা (1)  smile (1)  মার্বেল গুহা (1)  car racing (1)  রাজবাড়ী (1)  শালবন বিহার (1)  byke (1)  shoping (1)  সিপ্পি (1)  food (1)  রাগ (1)  talk (1)  nirapod (1)  the chapel. (1)  facebook (2)  formula (1)  imran khan (1)  bollywood (1)  এ্যাডভেঞ্চার (1)  lalkhal (1)  কুমিল্লা (1)  collection (1)  গাড়ো পাহাড় (1)  চেলাই নদী (1)  bad (1)  ঘরের সাজ (1)  হংকং (1)  সুন্দর থাকুন (1)  নিঝুম দ্বীপ (1)  smartness (1)  health advice (1)  ময়মনসিংহ (1)  নারীর ১০ অভ্যাস (1)  “locate (1)  ঈদগাহ্ (1)  সমুদ্রস্নান (1)  participat (1)  adssourcing.com (1)  কৃত্রিম (1)  amir khan (1)  beauty (1)  বিথঙ্গল (1)  sherpur (1)  লাউয়াছড়া (1)  সৌন্দর্যের সাত সূত্র (1)  behave (1)  বিয়ে বিচ্ছেদ (1)  বান্দরবান (1)  tips (7)  দিল্লির আখড়া (1)  জাকারিয়া সিটি (1)  dolancer.com (1)  men (1)  অনুভূতি (1)  রংপুর (1)  travel (2)  মহেশখালী দ্বীপ (1)  উত্তেজনা (1)  job (2)  জেলেপল্লী (1)  post (1)  পাতালপুরী (1)  white vinegar! (1)  pressure (1)  lifestyle (5)  প্রেমতলা (1)  kaptai (1)  skylancers.com (1)  গভীর ঘুমের প্রস্তুতি (1)  বিয়ে (1)  documentary (1)  বিলাসবহুল (1)  flying (1)  ঘুমের প্রস্তুতি (1)  fake id (1)  বান্দরবন (1)  পাকা চুল (1)  win (1)  be carefull (1)  supper (1)  উর্বশী (1)  সিলেট (1)  কাপ্তাই হ্রদ (1)  ঈদের শপিং (1)  ফর্মুলা ওয়ান (1)  harmfull (1)  awsome (2)  7 formula (2)  মালয়েশিয়া (1)  এক ঋতুর দেশ (1)  স্লোভেনিয়া (1)  ভোলাগঞ্জ (1)  বাইক (1)  patagonia (1)  অন্নপূর্ণা (1)  tea (1)  diggnity.com (1)  গম্ভীর ছেলে (1)  ভ্রমন (1)  বগালেক (1)  relationship (1)  share (1)  road (1)  wars (1)  chocolate (1)  dreamy (1)  মুক্তা গাছা জমিদার বাড়ী (1)  প্রাকৃতিক দ্বীপ (1)  হাশিখুশি নয় (1)  www.kothay.com (1)  women (1)  hair (1)  decoretion (1)  আন্তর্জাতিক (1)  মেঘের স্বর্গ (1)  boring (1)  smartness (1)  কেনোপি টাওয়ার (1)  ভালোবাসার নিদর্শন (1)  record (1)  eid (1)  দার্জিলিং (1)  hong kong (1)  স্মার্টনেস (1)  sea (1)  কুয়াকাটা (1)  sharak (1)  india (1)  অ্যাপল (1)  sleeping (1)  woman (2)  chat (1)  home (2)  tajmahal (1)  trave (1)  samsung s3 (1)  গ্রামীণ ব্যাংক (1)  সৈয়দপুর (1)  ডার্ক চকোলেট (1)  bank (1)  skywalker.com (1)  flood (1)  মুক্তা গাছা (1)  রাগ (1)  ঝাউবন (1)  problem (1)  the cathedral (1)  carrera (1)  nice (2)  profile (1)  star (1)  eid (1)  ফুসফুস (1)  কোরিয়া (1)  সীতাকুণ্ড (1)  ন্যাড়া পাহাড়ের (1)  বৌদ্ধমন্দির (1)  life style (48)  পাহাড়ী কন্যা (1)  সৌন্দর্য (1)  অপরূপ সৌন্দর্য (1)  table salt (1)  sippi (1)  ইউনূস (1)  dhaka (1)  লালাখাল (1)  ফুসফুস (1)  সিলেট (1)  ক্যান্সার প্রতিরোধ করে (1)  তাজমহল (1)  চা (1)  bambo (1)  শুঁটকিপল্লী (1)  nijhum dip (1)  darjiling (1)  dream (1)  park (1)  travel (25) 


RECENT ACTIVITIES
View All
Aug. 19, 2012, 1:13 p.m.  sajid received a praise for সাগরকন্যা কুয়াকাটা and gained 2 points     View
Aug. 19, 2012, 1:13 p.m.  sajid liked সাগরকন্যা কুয়াকাটা and gained 1 point     View
Aug. 19, 2012, 12:53 p.m.  sajid updated the blog: সাগরকন্যা কুয়াকাটা     View
Aug. 19, 2012, 12:51 p.m.  sajid created a blog: সাগরকন্যা কুয়াকাটা and gained 5 points     View

সাগরকন্যা কুয়াকাটা

Posted by sajid on on Aug. 19, 2012, 12:53 p.m.  

‘দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। যতক্ষণ দেশকে না জানি-ততক্ষণ সে দেশ আপনার নয়।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ কথার সূত্র ধরে যদি নিজেকে প্রশ্ন রাখি নিজের দেশকে কতটা জানি তাহলে তার উত্তর কী মিলবে? উত্তর মিলবে রবীন্দ্রনাথেরই ভাষায়-দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া...। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়েছে সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। নাম তার কুয়াকাটা। সাগর তার নিজের মতো করে সাজিয়েছে এখানকার সবকিছুকে। তাই একে বলা হয় সাগরকন্যা। সূর্য এখানে সাগর থেকে উদয় হয়ে সাগরেই আবার তলিয়ে যায়। এ এক বিরল রোমাঞ্চকর দৃশ্য। সাগরের নোনা ঢেউয়ের স্পর্শে পায়ের নিচের বালু সরে সরে যাওয়া, সাগরের বালুকাবেলায় প্রিয়জনের সঙ্গে হেঁটে বেড়ানো, ঝাউবনের ছায়ায় বসে বসে সাগরের বিশাল অপরূপ ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার দৃশ্য অবলোকন, রাতের নির্জনে সাগরপারে সমুদ্রের শোঁ শোঁ গর্জন আর কানে কানে বাতাসের শিস্ কারও মনে এনে দেবে অন্যরকম এক আনন্দের পরশ। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া বা খেপুপাড়া থানার অন্তর্গত লতাচাপালি ইউনিয়নে অবস্থান কুয়াকাটার। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের স্থলসীমান্ত এই কুয়াকাটা। এর পরে শুধুই সমুদ্র আর সমুদ্র। যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ পানি আর পানি। এখানে আকাশ এসে মিশেছে পানির সঙ্গে। প্রকৃতির দেওয়া ঐশ্বর্যের কারণে জেলা-থানা-ইউনিয়নের নাম ছাপিয়ে কুয়াকাটা নামটিই আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে বেশি। ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। আর পটুয়াখালী থেকে ৭০ কিলোমিটার। কীভাবে যাবেন পর্যটন করপোরেশন কিংবা কোনো ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গেলে তারাই আপনার ভ্রমণ ও যাতায়াতের সব ব্যবস্থা করবে। আর যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুয়াকাটায় যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে যেতে পারেন। বাস ছাড়ে সায়েদাবাদ কিংবা গাবতলী থেকে, বিআরটিসির বাস ছাড়ে কমলাপুর থেকে। ঢাকা থেকে চাইলে লঞ্চ, রকেট স্টিমার বা বিমানে বরিশাল বা লঞ্চে পটুয়াখালী, বরগুনা বা খেপুপাড়া যেতে পারেন। সেখান থেকে মাইক্রোবাসে কুয়াকাটা। মনে রাখতে হবে, ঢাকা থেকে এসব অঞ্চল নৌপথে পুরো এক রাতের পথ। হাতে সময় থাকলে লঞ্চে যাওয়া মন্দ নয়। তাতে রাতের নদীপথে বাংলাদেশের আরেক সৌন্দর্য উন্মোচিত হবে আপনার সামনে। তবে লোকাল বাসের আশায় এসব জায়গায় না যাওয়াই ভালো। সেটা আপনার জন্য সুখকর না-ও হতে পারে। কুয়াকাটার সবচেয়ে কাছের লঞ্চস্টেশন খেপুপাড়া। সেখান থেকে বাসে সামান্য রাস্তা কুয়াকাটা। ঢাকা থেকে কুয়াকাটার বাসভাড়া সর্বোচ্চ সাড়ে তিনশ’ টাকা। দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসীরাও যেতে পারেন বরিশাল, পটুয়াখালী বা বরগুনা হয়ে। এই তিন জেলা শহরের সঙ্গেই সড়কপথে কুয়াকাটার যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে। কী কী উপভোগ করবেন কুয়াকাটায় কুয়াকাটার ১৭ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত আসলেই উপভোগ্য। সমুদ্রস্নান, সমুদ্রে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত আর জেলেদের সমুদ্রে মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগের সুযোগের পাশাপাশি কুয়াকাটায় আরও দর্শনীয় আছে এশিয়ার সর্ববৃহত্ বুদ্ধমূর্তি, যার নামে কুয়াকাটার নামকরণ সেই ২০০ বছরের পুরনো কুয়া, রাখাইন পল্লী আর রাখাইন মহিলা মার্কেট, আছে ঝাউবন, লেমুয়ার বন, জেলে এবং শুঁটকিপল্লী, বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত সমুদ্রের প্রাণীদের জাদুঘর ‘সি ফিশ মিউজিয়াম’ ইত্যাদি। সারা বছর এখানে পর্যটকদের আসা-যাওয়া থাকলেও কুয়াকাটায় ভ্রমণের সময় হলো শীতকাল। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার এক বিরল সুযোগ রয়েছে এখানে। তবে তা শীতকালে। বছরের অন্যান্য সময় সে দৃশ্য বাধা পায় পুবদিকের ঝাউবনে। শীতকালে পুব থেকে সামান্য দক্ষিণে এসে উদয় হয় বলে তখন সমুদ্রে সূর্যোদয় দেখা যায়। তবে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যায় সারা বছরই, যদি আকাশ মেঘহীন-পরিষ্কার থাকে। অস্তায়মান বিশাল আকারের লাল সূর্য, অর্ধেক তার আকাশে আর অর্ধেক সমুদ্রের পানির মধ্যে-এ এক দৃশ্য বটে। এ দৃশ্য শুধু মনে নয়, একে ধরে রাখতে চাইলে ক্যামেরা নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। অস্তায়মান সূর্যের যদি ছবি তুলতে চান, আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকবেন। সমুদ্রে সূর্য অস্ত যেতে খুব কম সময় লাগে। আগে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক করে না রাখলে সবকিছু সামনে পেয়েও সে সুযোগ আপনি হারাতে পারেন। কুয়াকাটায় গেলে সঙ্গে অবশ্যই ক্যামেরা রাখবেন। ফিল্ম, ব্যাটারি এসব এখানে পাওয়া যাবে। তবে সূর্যাস্তের ছবি তোলার জন্য সবকিছু নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। রাখাইনদের আতিথেয়তা কুয়াকাটায় এলে আপনি রাখাইনদের বিচিত্র জীবনযাপন পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। তাদের অপূর্ব আতিথেয়তায় আপনি মুগ্ধ হবেন। রাখাইনরা খুবই অতিথিপরায়ণ। প্রাচীনকাল হতেই রাখাইনরা তাঁতে কাপড় বুনে নিজস্ব পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। পরবর্তী পর্যায়ে অনেকেই বাঁচার তাগিদে তাঁত শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। বর্তমানে তাঁত শিল্প রাখাইনদের ঐতিহ্যপূর্ণ জাতিগত পেশা। অনেক রাখাইন পরিবারে হস্তচালিত পুরনো ধরনের তাঁত রয়েছে এখনও এবং সেই তাঁতে রাখাইন তরুণী ও মহিলারা তাদের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি অনুযায়ী নানা রংয়ের নানা রকমের কাপড় বুনে থাকে। তারা নিজস্ব পরিবারের জন্য থামি (লুঙ্গি), আংগ্যি (ব্লাউজ), চাদর, বিছানার চাদর প্রভৃতি তৈরি করে নিজেদের অভাব পূরণ করে। রাখাইন পরিবারে তাঁতে কাপড় বুনতে জানে না এমন মেয়ে বিরল। প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে এরা এদের তাঁতে তৈরি বিভিন্ন কাপড় আর সেসবের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পোশাক শিল্পকে ধরে রাখতে হিমশিম খেলেও এখনও এখানে কিছু আদিবাসী পরিবার তাঁতে কাপড় তৈরির সে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সেগুলো দেখতে যান। ভালো লাগবে। ঝাউবন কুয়াকাটায় রিকশা নেই। নিজেদের গাড়ি না থাকলে রিকশাভ্যানে চড়ে যেতে পারেন ঝাউবন অথবা ভাড়া করা মোটরসাইকেলে। মোটরসাইকেল বেড়িবাঁধ অথবা সাগরসৈকত দুদিক দিয়েই চলাচল করে। আপনি নিজে চালাতে চাইলে বা পারলে নিজেই মোটরসাইকেল ভাড়ায় নিয়ে নিতে পারেন। আর নিজে না পারলে ড্রাইভারও পাবেন সঙ্গে। যেতে পারেন সাগরের সৈকত ধরে হাঁটতে হাঁটতেও। কুয়াকাটা বাজার থেকে সামান্য পূর্ব দিকে সবচেয়ে কাছের ঝাউবন ‘ফোরসোর’-এর আয়তন ছয় দশমিক চার হেক্টর। ১৯৯৭-৯৮ সালে বাংলাদেশ বন বিভাগ এই ঝাউবনের আবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করে। নির্জন এ ঝাউবনে বসে বিশ্রাম নেওয়া ও বসে বসে সমুদ্র দেখার জন্য ভাড়ায় চৌকির ব্যবস্থা আছে। আছে চা-বিস্কুট-কোমল পানীয়ের দোকান। আরেকটি কথা, বাংলাদেশের আর দশটি পর্যটন বা স্বাভাবিক স্থানের মতো কুয়াকাটায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতির কথা একেবারেই শোনা যায় না। তাই সমুদ্র সৈকত কিংবা ঝাউবনের নির্জনতায় আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কুয়াকাটা থেকে আপনি চাইলে সুন্দরবনের অংশ গঙ্গামতি রিজার্ভ ফরেস্ট ঘুরে আসতে পারেন। আরও যেতে পারেন ফাতরার জঙ্গলে। আর এসবের জন্য সাহায্য নিতে পারেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের। অনেক বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠানও অবশ্য আপনাকে সাহায্য করার জন্য তৈরি রয়েছে। জেলেপল্লী ও শুঁটকিপল্লী ঝাউবন দেখা শেষে আরেকটু পূর্বদিকে এগিয়ে জেলেপল্লী বা শুঁটকিপল্লীতে গেলে আপনার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে। এখানে জেলেরা কেউ তাদের জালের পরিচর্যায় ব্যস্ত, কেউ শুঁটকি প্রসেসিংয়ে, কেউ বা শুঁটকি শুকাতে দেওয়ায়। কে জানে এখানকার কোনো এক জেলেকে দেখে আপনার মনে পড়তে পারে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি সেই কুবের মাঝির কথা। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হন তাহলে জেলেদের অনুরোধ করে দেখতে পারেন তাদের সঙ্গে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য। তাদেরকে রাজি করাতে পারলে আপনি মুখোমুখি হবেন নতুন এক অ্যাডভেঞ্চারের। অসীম সাহসী এখানকার জেলেরা। সমুদ্রের রুদ্র রূপকে উপেক্ষা করে নৌকা নিয়ে তারা বেরিয়ে পড়ে মাছ ধরতে। ৮-১০ ফুট লম্বা একেকটি হাঙ্গর শিকারের কাহিনী তাদের মুখে শুনলে যে-কেউ শিহরিত হবেন। চাইলে জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে আনতে পারেন। কুয়াকাটার ছোটখাটো কোনো হোটেলে সে মাছ দিলে আপনাকে রান্না করে খাওয়াবে তারা। আর মাছ না কিনতে চাইলে এখানকার হোটেলগুলোতে আপনি এমনিতেই পাবেন সমুদ্রের তাজা মাছ। সমুদ্রের তাজা ইলিশ, রূপচাঁদা বা অন্য কোনো মাছের স্বাদ অনেক দিন মনে করতে পারবেন আপনি। সমুদ্রস্নান সমুদ্রস্নানের অভিজ্ঞতা না থাকলে এখানে আপনি পাবেন অন্যরকম আনন্দদায়ক এক অভিজ্ঞতা। হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে আপনি। সামনে বিশাল ঢেউ। পায়ের নিচের বালু ধীরে ধীরে সরে সরে যাচ্ছে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। আপনার মনে পড়তে পারে চোরাবালির কথা। তবে ভয় পাবেন না। কুয়াকাটার সৈকতে চোরাবালি তৈরি হওয়ার কথা শোনা যায়নি এ পর্যন্ত। সামনে বিশাল ঢেউয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন নির্ভয়ে। সমুদ্রে ডুবে মরার ভয় নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সমুদ্রে নামতে হবে জোয়ারের সময়। ভাটার সময় সমুদ্রে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। আর সাঁতার তো জানতেই হবে। জোয়ারের ঢেউ আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে না। পারলে সামনের দিকে যেতে চেষ্টা করুন। ঢেউ আপনাকে ফিরিয়ে দেবে সৈকতের দিকে। আর বেশি ভয় করলে ভাড়ায় লাইফবয়া পাওয়া যায়। কুয়াকাটার সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ কক্সবাজারের চাইতে কম। আরেকটি কথা, সাগরস্নানের জন্য সুইমিং কস্টিউম অবশ্যই মনে করে সঙ্গে নেবেন। সাগরে গোসলের পরে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হওয়া পর্যন্ত ভেজা কাপড়ে ফিরতে হবে সে কথা অবশ্যই যেন মনে থাকে। বৌদ্ধমন্দির কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী কুয়ার পাশেই রয়েছে একটি বৌদ্ধমন্দির। এখানে একটি বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। তবে কুয়াকাটায় গেলে আপনি যে স্থানে থাকবেন তার থেকে সামান্য দূরে মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে আরও একটি বৌদ্ধমন্দির। যেখানে গেলে দেখতে পাবেন এশিয়ার মধ্যে সববৃহত্ বুদ্ধমূর্তিটি। প্রাচীন এ বুদ্ধমূর্তিটির উচ্চতা ২৮ ফুট। এতদূর এসেও এ বিরল প্রাচীন কীর্তি দেখার সুযোগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন কি না ভেবে দেখুন। তা ছাড়া আছে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘সি ফিশ মিউজিয়াম’ নামে সমুদ্রের প্রাণীদের জাদুঘর। সামুদ্রিক মাছসহ ১৩০ প্রকারের সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে এই মিউজিয়ামে। এখানে রয়েছে টাইগার হাঙ্গর, জেলি ফিশ, সোনা বাইম, বাদুড় মাছ, সজার মাছ, অক্টোপাস, হাঙ্গর, টুনা ফিশ, সামুদ্রিক কাঁকড়া, সামুদ্রিক সাপসহ বিরল প্রজাতির অনেক মাছ। স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে সমুদ্রের বিচিত্র সব মাছ সংগ্রহের কাজ এখনও চলছে। অর্থাত্ এখানকার সংগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। রাতে সমুদ্র দর্শন আমাদের দেশে দেশি-বিদেশি ট্যুরিস্ট বা ভ্রমণপিয়াসীদের মূল যে সমস্যা-মাস্তান, ছিনতাইকারী বা স্থানীয় বখাটেদের উত্পাত-কুয়াকাটায় সে উপদ্রব একেবারেই নেই। তাই দিন-রাতের যে কোনো সময় এখানকার সব জায়গার পরিবেশই নিরাপদ। রাতে সমুদ্র দর্শন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এখানকার সৈকতে প্রায় সারা রাতই লোকজনের যাতায়াত থাকে। সেই সঙ্গে সৈকত সংলগ্ন দোকানগুলোও যতক্ষণ লোকসমাগম থাকে ততক্ষণ খোলা থাকে। রাতে সৈকতে যেতে চাইলে যেতে পারেন অনায়াসেই। আর সে রাত যদি পূর্ণিমা বা জ্যোত্স্না রাত হয় তা হলে তো কথাই নেই। দেখবেন দলে দলে লোক বিভিন্ন জায়গায় জটলা পাকিয়ে আছে। সমুদ্রের গর্জনের পাশাপাশি কানের কাছ দিয়ে শিস্ কেটে যাচ্ছে সমুদ্রগন্ধ বয়ে নিয়ে আসা মাতাল বাতাস। তারই মধ্যে কোনো বাউল একতারা হাতে গেয়ে চলেছেন-আমি অপার হয়ে বসে আছি/ওহে দয়াময়/পারে লয়ে যাও আমায়...। এমন পরিবেশে আপনারও ভুলে যেতে ইচ্ছা করবে ঘরবাড়ির কথা। এ এক পাগল করা ক্ষণ। মনে হবে জগতের সব শান্তি, সব সুন্দর এই রাতের সমুদ্রপারেই, যা ছেড়ে হোটেলে গিয়ে গা এলাতে ইচ্ছা করবে না আপনার মোটেও-তা আপনি যতই ঘুমকাতুরে হন না কেন। কেনাকাটা বালুকাবেলায় কুড়ানোর মতো শামুক-ঝিনুক উঠে আসে না কুয়াকাটার সৈকতে। তাই বলে সাগরের স্মৃতিচিহ্ন শামুক-ঝিনুক নিয়ে আসতে চাইলে নিরাশ হতে হবে না কাউকে। এখানকার ব্যবসায়ীরা তাদের পসরার বিরাট অংশ সাজিয়ে রেখেছেন আপনার জন্য শামুক-ঝিনুকের বিভিন্ন নয়ন মনোহর সামগ্রী দিয়ে। ইচ্ছা করলে আপনি তাদের কাছ থেকে শামুক-ঝিনুক কিনে অর্ডার দিয়ে প্রিয়জনের নাম লিখিয়ে আনতে পারেন। প্রিয়জন নিঃসন্দেহে খুশি হবেন। এখানে কেনাকাটার মতো আরও রয়েছে বার্মিজ বিভিন্ন সামগ্রী। আছে শিশুদের জন্য নানারকম পোশাক। মেয়েদের জন্য শামুক-ঝিনুকের তৈরি গয়না। পুরুষের জন্য বার্মিজ লুঙ্গি ইত্যাদি। আর এসবের মূল্যও একেবারে সবার নাগালের মধ্যে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সালেহ জানালেন, মানুষ ভ্রমণে বের হলে প্রিয়জনের জন্য কিছু না কিছু শৌখিন বা উপহার সামগ্রী নিয়ে যেতে চান। যদিও কুয়াকাটায় এসবের তেমন কিছুই তৈরি হয় না। তবে ভ্রমণপিয়াসীরা যাতে নিরাশ না হন সেজন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের জন্য আকর্ষণীয় এসব দ্রব্য তারা জোগাড় করে রাখেন। আর প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে তারা এগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। রাখাইন মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত রাখাইন মহিলা মার্কেটটিতে উপজাতিদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। কোথায় থাকবেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বন বিভাগের হোটেল, মোটেল ছাড়াও বেসরকারি আবাসিক হোটেল আছে কুয়াকাটায়। পর্যটন হলিডে হোমসের রয়েছে ১৬টি ডবল রুমের আবাসিক ব্যবস্থা। সঙ্গে রয়েছে ৫০ আসনবিশিষ্ট রেস্টুরেন্ট। তবে কুয়াকাটায় গেলে হোটেল বুকিং না দিয়ে যাবেন না। তাতে বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত নীলাঞ্জনার ভাড়াও হলিডে হোমসের মতোই। এছাড়া এখানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাড়ার হোটেল পাবেন। যেহেতু সমুদ্র দর্শনই আপনার প্রধান উদ্দেশ্য তাই হোটেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সি-বিচ থেকে যতটা কাছে থাকা যায় ততই ভালো। কী খাবেন কোথায় খাবেন কুয়াকাটার রেস্তোরাঁ বা খাবারের দোকানে খাওয়াদাওয়া খুবই সস্তা। ছোটবড় সব খাবারের দোকানের খাবারের মানই ভালো। মাছ-মাংস-সবজি সব ধরনের খাবার পাওয়া গেলেও যেহেতু এখানে সমুদ্রের তাজা মাছ পাওয়া যায় তাই সমুদ্রের মাছই আপনার পছন্দের তালিকায় রাখার চেষ্টা করবেন। জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে এনে দিলে খাবারের দোকানগুলো তা আপনাকে রেঁধে খাওয়াবে। নইলে উপস্থিতমতোই রাঁধা মাছ খেতে পারেন। ছবি তোলা ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা ভাড়ায় পাওয়া যায় এখানে। তবে সেগুলো সাধারণ ক্যামেরা। আপনি মানসম্মত ছবি তুলতে চাইলে সঙ্গে ভালো ক্যামেরা নিতে হবে। এত সুন্দর পরিবেশে কোনো কারণে মনের মতো ছবি তুলতে না পারলে পরে পস্তাতে হতে পারে। তাই আগে থেকেই ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক সবকিছু নিয়ে নিতে হবে। সূর্যাস্তের ছবি তুলতে চাইলে আগে থেকেই ক্যামেরা তৈরি করে বসে থাকতে হবে। কারণ সূর্য যখন সমুদ্র ছুঁই ছুঁই করে অস্ত যায় তখন ক্যামেরা তৈরি করার মতো সময় সে আপনাকে দেবে না। তাই আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে। ভালো ছবি তুলতে চাইলে ভালো ক্যামেরা ও লেন্স আগে থেকেই সঙ্গে নিতে হবে। একান্তই যদি সম্ভব না হয় তবে সমুদ্রপারে স্টুডিও আছে। তাদের মাধ্যমে ছবি তুলে প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে এলে পরে তারা ছবি প্রিন্ট করে আপনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবে। সবশেষে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশের স্থান নেই। বিদেশিরা শুধু ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন না বললেই চলে। এজন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই দায়ী করা যায় না। কারণ অতিথিবত্সল হিসেবে বাংলাদেশের অধিবাসীদের সুনাম আছে। বিশ্বে এখন পর্যটন শিল্পকে প্রথম সারির সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ধরা হয়। আর ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকদের ঝোঁক ইদানীং প্রকৃতি দর্শনের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়েছে। বাংলাদেশেও রয়েছে এ ধরনের অনেক সম্ভাবনাময় ন্যাচারাল বিউটি পর্যটন স্পট। যার মধ্যে কুয়াকাটা অন্যতম। আরও রয়েছে বিশ্বের মধ্যে একক সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। কক্সবাজারের সাফারি পার্ক, সীতাকুণ্ডের ইকো পার্ক ইত্যাদি, যা পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তারপরও পর্যটন ব্যবসায় বাংলাদেশ একেবারেই সাফল্য লাভ করেনি। এর জন্য দায়ী যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব। প্রাকৃতিকভাবে আমাদের এত বৈভব থাকার পরেও আমরা তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বের কাছে তাকে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি। সরকার এদিকটায় যথাযথ দৃষ্টি দিলে বাংলাদেশও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে সুনাম অর্জন করতে পারবে। এদিক বিবেচনায় কুয়াকাটাকে আকর্ষণীয় করতে বেশ কিছু কাজ এখনও করার বাকি আছে। যার প্রথমটি যাতায়াত ব্যবস্থা। ইদানীং কুয়াকাটায় যাওয়ার জন্য সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলেও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নদীতে সেতু না থাকায় তা বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। রাস্তার অবস্থাও তেমন ভালো নয়। সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল-কটেজের ব্যবস্থা থাকা দরকার। ট্যুরিস্টদের জন্য বারের। এক্ষেত্রে আমাদের রক্ষণশীলতাকে আঁকড়ে থাকলে চলবে না। অর্থাত্ পর্যটন শিল্পের স্বার্থে যা যা করার দরকার সবই করতে হবে। আর সবকিছুর জন্য আমাদের সরকারকেই আরেকটু দৃষ্টি দিতে হবে এ দিকটায়। কুয়াকাটার পত্তন সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলার দক্ষিণাঞ্চল-কাপড়াভাঙা, লতাচাপালি, বড় বাইশদিয়া, রাঙ্গাবালি ও আইল প্রভৃতি জায়গা ছিল বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ। এগুলো ছিল মূলত সুন্দরবনের অংশ। এখানে প্রথম মানববসতি স্থাপন করে আরাকান থেকে আগত রাখাইনরা। সেক্ষেত্রে রাখাইনরাই এ অঞ্চলের প্রথম অধিবাসী। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে উপনিবেশ গড়ে ওঠার পেছনে এক করুণ ও বেদনাসিক্ত ইতিহাস লুকিয়ে আছে। খ্রিস্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকে ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আরাকান ছিল বর্তমান মিয়ানমার রাজ্য থেকে আলাদা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজ্য। এ রাজ্যে বহু রাজবংশ রাজত্ব করেছে। এর মধ্যে চন্দ্র বংশ ও ম্রাউ বংশ উল্লেখযোগ্য। ম্রাউ রাজবংশের শেষ সম্রাট থামাদা যখন আরাকানের সিংহাসনে উপবিষ্ট, তখন আধিপত্যবাদী বর্মী শাসক বোধপায়া এই ক্ষুদ্র রাজ্যটি করায়ত্ত করার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী বোধপায়া প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে আরাকান রাজ্য আক্রমণ করেন। আরাকানের অধিবাসীরা বর্মী শত্রুবাহিনীকে প্রাণপণে বাধা দেন। কিন্তু বর্মী সেনাবাহিনী সংখ্যায় অনেক বেশি ও সুপ্রশিক্ষিত হওয়ায় আরাকানিরা তাদের নিকট পরাজিত হন। সম্রাট থামাদা বর্মীদের হাতে বন্দি হয়ে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন। এভাবে আরাকান ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে তার স্বাধীন সত্তা হারিয়ে ব্রহ্মদেশের (বর্তমান মিয়ানমার) একটি প্রদেশে পরিণত হয়। বর্মী সেনাবাহিনী পরাজিত আরাকানিদের ওপর বর্বরোচিত অত্যাচার শুরু করে। এ সময় বর্মী সেনাবাহিনী প্রায় ২০ হাজার আরাকানিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বর্মীদের অত্যাচার, আরাকানের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গোলযোগ সেখানকার জনজীবনকে বিপন্ন করে তোলে। ১৭৮৪ সালের নভেম্বর মাসে সদ্য স্বাধীনতালুপ্ত আরাকানের ছেংডোয়ে, রেমেব্রে, মেংঅং অঞ্চলগুলো হতে ১২০টি রাখাইন পরিবার ৫৬টি নৌকায় করে ১১ দিন ১১ রাত সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার পর গলাচিপা থানার রাঙ্গাবালি দ্বীপে এসে পৌঁছে। জনমানবহীন এক সমুদ্রদ্বীপ, হিংস্র জীবজন্তুতে পরিপূর্ণ সে অরণ্যভূমি। তারা জঙ্গল কেটে রাঙ্গাবালিকে পরিষ্কার করে বাসোপযোগী করে তোলে। পরে লোকসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে তারা নতুন ভূমির অন্বেষণে কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালীর অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই পত্তন হয় কুয়াকাটার। পরবর্তীকালে পার্শ্ববর্তী বর্তমান পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী জেলার কিছু কিছু বাঙালি পরিবারও কুয়াকাটায় বসবাস করতে শুরু করে।

You are not a follower
Follow?
This post was billed under the category Travel
 Tags:  ঝাউবন   সমুদ্রস্নান   কুয়াকাটা   বৌদ্ধমন্দির   জেলেপল্লী   শুঁটকিপল্লী   travel