Kothay Tip!!!

Did you know your participation in Blog posts can get you points? Create, Like, and Comment to increase your points!!! Also, get a chance to win exciting prizes by participating in the kothay competition. Click here for more! Register or Sign in now to enjoy!!!



Tags
মায়াবী জগৎ (1)  office (1)  las cavernas de marmol (1)  lifestyle and places (1)  ptc (1)  tips (2)  beauty tips (3)  নারী (1)  impression (1)  কমলগঞ্জ (1)  aple (1)  কিওক্রাডাং (1)  travel (1)  the cave (1)  শোলাকিয়া (1)  বেলাই বিল (1)  sylet (1)  lancetech.com (1)  চিনি মসজিদ (1)  আলাদীন পার্ক (1)  ত্বকের পরিচর্যা (1)  smile (1)  মার্বেল গুহা (1)  car racing (1)  রাজবাড়ী (1)  শালবন বিহার (1)  byke (1)  shoping (1)  সিপ্পি (1)  food (1)  রাগ (1)  talk (1)  nirapod (1)  the chapel. (1)  facebook (2)  formula (1)  imran khan (1)  bollywood (1)  এ্যাডভেঞ্চার (1)  lalkhal (1)  কুমিল্লা (1)  collection (1)  গাড়ো পাহাড় (1)  চেলাই নদী (1)  bad (1)  ঘরের সাজ (1)  হংকং (1)  সুন্দর থাকুন (1)  নিঝুম দ্বীপ (1)  smartness (1)  health advice (1)  ময়মনসিংহ (1)  নারীর ১০ অভ্যাস (1)  “locate (1)  ঈদগাহ্ (1)  সমুদ্রস্নান (1)  participat (1)  adssourcing.com (1)  কৃত্রিম (1)  amir khan (1)  beauty (1)  বিথঙ্গল (1)  sherpur (1)  লাউয়াছড়া (1)  সৌন্দর্যের সাত সূত্র (1)  behave (1)  বিয়ে বিচ্ছেদ (1)  বান্দরবান (1)  tips (7)  দিল্লির আখড়া (1)  জাকারিয়া সিটি (1)  dolancer.com (1)  men (1)  অনুভূতি (1)  রংপুর (1)  travel (2)  মহেশখালী দ্বীপ (1)  উত্তেজনা (1)  job (2)  জেলেপল্লী (1)  post (1)  পাতালপুরী (1)  white vinegar! (1)  pressure (1)  lifestyle (5)  প্রেমতলা (1)  kaptai (1)  skylancers.com (1)  গভীর ঘুমের প্রস্তুতি (1)  বিয়ে (1)  documentary (1)  বিলাসবহুল (1)  flying (1)  ঘুমের প্রস্তুতি (1)  fake id (1)  বান্দরবন (1)  পাকা চুল (1)  win (1)  be carefull (1)  supper (1)  উর্বশী (1)  সিলেট (1)  কাপ্তাই হ্রদ (1)  ঈদের শপিং (1)  ফর্মুলা ওয়ান (1)  harmfull (1)  awsome (2)  7 formula (2)  মালয়েশিয়া (1)  এক ঋতুর দেশ (1)  স্লোভেনিয়া (1)  ভোলাগঞ্জ (1)  বাইক (1)  patagonia (1)  অন্নপূর্ণা (1)  tea (1)  diggnity.com (1)  গম্ভীর ছেলে (1)  ভ্রমন (1)  বগালেক (1)  relationship (1)  share (1)  road (1)  wars (1)  chocolate (1)  dreamy (1)  মুক্তা গাছা জমিদার বাড়ী (1)  প্রাকৃতিক দ্বীপ (1)  হাশিখুশি নয় (1)  www.kothay.com (1)  women (1)  hair (1)  decoretion (1)  আন্তর্জাতিক (1)  মেঘের স্বর্গ (1)  boring (1)  smartness (1)  কেনোপি টাওয়ার (1)  ভালোবাসার নিদর্শন (1)  record (1)  eid (1)  দার্জিলিং (1)  hong kong (1)  স্মার্টনেস (1)  sea (1)  কুয়াকাটা (1)  sharak (1)  india (1)  অ্যাপল (1)  sleeping (1)  woman (2)  chat (1)  home (2)  tajmahal (1)  trave (1)  samsung s3 (1)  গ্রামীণ ব্যাংক (1)  সৈয়দপুর (1)  ডার্ক চকোলেট (1)  bank (1)  skywalker.com (1)  flood (1)  মুক্তা গাছা (1)  রাগ (1)  ঝাউবন (1)  problem (1)  the cathedral (1)  carrera (1)  nice (2)  profile (1)  star (1)  eid (1)  ফুসফুস (1)  কোরিয়া (1)  সীতাকুণ্ড (1)  ন্যাড়া পাহাড়ের (1)  বৌদ্ধমন্দির (1)  life style (48)  পাহাড়ী কন্যা (1)  সৌন্দর্য (1)  অপরূপ সৌন্দর্য (1)  table salt (1)  sippi (1)  ইউনূস (1)  dhaka (1)  লালাখাল (1)  ফুসফুস (1)  সিলেট (1)  ক্যান্সার প্রতিরোধ করে (1)  তাজমহল (1)  চা (1)  bambo (1)  শুঁটকিপল্লী (1)  nijhum dip (1)  darjiling (1)  dream (1)  park (1)  travel (25) 


RECENT ACTIVITIES
View All
Aug. 19, 2012, 1:14 p.m.  sajid received a praise for বগালেক ও কিওক্রাডাং and gained 2 points     View
Aug. 19, 2012, 1:14 p.m.  sajid liked বগালেক ও কিওক্রাডাং and gained 1 point     View
Aug. 19, 2012, 11:49 a.m.  sajid created a blog: বগালেক ও কিওক্রাডাং and gained 5 points     View

বগালেক ও কিওক্রাডাং

Posted by sajid on on Aug. 19, 2012, 11:49 a.m.  

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে বাসে করে বান্দরবন পৌঁছালাম। রুমা বাস স্ট্যান্ড থেকে আবার চড়ে বসলাম কাইক্ষ্যংঝিরি যাওয়ার বাসে। বান্দরবন এর আগে বেশ কয়েকবার গেলেও এ পথে আগে যাওয়া হয়নি। টের পেলাম ধীরে ধীরে আমরা বেশ উপরে উঠছি। বাসের জানালা দিয়ে দেখলাম যদি কোনভাবে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তো কমসে কম হাজার ফিট নীচে! এরই মাঝে আকাশ বেয়ে নামলো বৃষ্টি। এ বৃষ্টি আমাদের মনে যেমন আনন্দধারা বইয়ে দিলো তেমনি মনে খানিকটা ভয়ও ধরিয়ে দিলো। কারন বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকলে বগালেক ও কিওক্রাডাং যাওয়ার পথগুলো আরও দুর্গম হবে। আশপাশে মেঘ আর পাহাড়ের খেলা দেখতে দেখতে প্রায় তিন ঘন্টা পর কাইক্ষ্যংঝিরি পৌঁছালাম। কাইক্ষ্যংঝিরি গিয়ে রুমা বাজার যাওয়ার জন্য ট্রলারে চড়লাম। সন্ধ্যার ঠিক আগে সাঙ্গু নদে ট্রলার ভ্রমণটি আমার জীবনে নৈসর্গিকতা দর্শনের এক অনন্য উদাহরণ। মুর্হুমুহু আকাশ তার রং পাল্টাচ্ছে। আকাশের গায়ে হঠাৎ দেখলাম আগুন লেগেছে। ঠিক অপর পাশে জমে উঠেছে মেঘের ঘনঘটা । খানিক পরেই আবার ছড়াচ্ছে রক্তিম আভা। প্রায় দেড় ঘন্টা পর আমরা রুমা বাজার নামলাম। জার্নি করে শরীর ক্লান্ত হওয়ায় তাড়াতাড়ি হোটেলে উঠে হাতমুখ ধুয়ে নিলাম। এরপর গাইড ঠিক করে ও রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। শরীর ক্লান্ত থাকা স্বত্ত্বেও পরদিন সকালে বগা লেক যাবার উত্তেজনায় ঘুম আসছিলোনা। বগা লেকের পথে পথে ‘মামারা উঠে যান, আপনাদের গাইড চলে এসেছে’, হোটেল মালিকের ডাকাডাকিতে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম ঝিরি পথে হেঁটে হেঁটে বগা লেক যাবো। এ পথে গেলে সময় কম লাগবে আর বোনাস হিসেবে পাবো রুমা খাল আর ঝর্নার মনোরম সৌন্দর্য। তবে পথ কিছুটা দুর্গম। অন্তত: বর্ষাকালে তো বটেই। রওয়ানা হওয়ার আগে সেনাবাহিনী ক্যাম্পে নিজেদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর দিয়ে আসলাম। বগা লেক যেতে হলে গাইড ঠিক করা ও সেনাবাহিনীর কাছে নাম রেজিস্টার করা বাধ্যতামূলক। কখনও উঁচু-নীচু পাহাড়ি রাস্তা, কখনও ঝোঁপঝাড়, পিচ্ছিল পথ আর ঝিল পেরিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে থাকলাম। তার উপর কখনও আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি কখনও ঝলমলে রোদ। বগা লেকে যাওয়ার পথে আমাদের প্রায় পঞ্চাশবার ঝিলপথ পাড়ি দিতে হয়েছিলো। এ ঝিল মূলত রুমা খাল ও বগা মুখের অংশ। পথে আরো পেয়েছিলাম শীতল পানির অনেকগুলো ঝর্ণা। ঝর্ণাগুলো থেকে আমরা খাবার পানি ভরে নিতাম। ঝিরি পথে হেঁটে না গেলে বগা লেক যাওয়ার মজাটাই নষ্ট হয়ে যেতো। আশপাশের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যেতে হয়। আর কিছু না হোক সৃষ্টিকর্তা আমার প্রিয় মাতৃভূমিকে সবুজ-শ্যামলে পরিপূর্ণ অনন্ত যৌবন দিয়েছেন। যেসব রাস্তা পেরোতে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো সেসব রাস্তাই স্থানীয় পাহাড়িরা অনায়াসেই পার হচ্ছিলো। আর আমাদের বেগতিক অবস্থা দেখে তারা তো হেসেই কুটিকুটি। তবে ভালো লেগেছিলো পাহাড়ি মানুষগুলোর সরলতা আর আন্তরিকতা। সহজেই আপন করে নেওয়ার মনোভাব আর সাহায্য করার প্রবণতা। প্রায় সতেরো কিলো আর সাত ঘন্টা হাঁটার পর কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছালাম। আহ! বগা লেক। দেখেই মন জুড়িয়ে গেলো। তখন আমাদের শরীরে এতটুকুন শক্তি অবশিষ্ট নেই। পা গুলো ভীষণ ভারী মনে হচ্ছিলো। গাইডকে খাবার দিতে বলে আমরা নেমে পড়লাম লেকে। গোসল সেরেই সিয়াম দিদির রেস্টহাউজে খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। খাবারের মেনুতে ছিলো মোটা লাল চালের ভাত, ডাল, ডিম ভাজা আর এক রকমের পাহাড়ি শাক। এরকম অমৃত খাবার আর কোনদিন খাইনি এমন করে গোগ্রাসে গিলতে থাকলাম। খাওয়া দাওয়া শেষে আমরা সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে গেলাম আমাদের উপস্থিতি জানান দিতে। এরপর সন্ধ্যা অবধি ঘুরে বেড়ালাম আর উপভোগ করলাম বগা লেকের পাগল করা রূপ। সঙ্গে চলতে থাকলো ফটোশেসন। বগা লেকের আয়তন প্রায় ১৫ একর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় ২৭০০ ফুট। এ লেক নিয়ে অনেক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস এ লেকের মাঝে ড্রাগন দেবতা বাস করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন প্রায় দুই হাজার বছর আগে সৃষ্ট এ স্বচ্ছ জলের মনোরম সরোবরটি মূলত মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। এপ্রিল-মে মাসে লেকের পানি প্রাকৃতিকভাবে ঘোলাটে হয়ে যায় যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতুহল রয়েছে। জোছনা স্নাত রাতে বগা লেক রহস্যময় নৈসর্গিক রূপ লাভ করে বলে অধিবাসীরা জানান। এখানকার অধিবাসীরা বম উপজাতি। বগা লেকের বেশিরভাগ ঘর-বাড়িই কাঠের তৈরি। কিওক্রাডাং চূড়ায় উড়িয়ে দিলাম লাল সবুজ নিশান পরদিন খুব ভোরে উঠে আমরা রেডি হয়ে নিলাম। আমরা রাত কাটিয়ে ছিলাম লারামের রেস্টহাউজে। রাতে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ায় একটু ভয়ে ছিলাম। সকালে আবহাওয়া বেশ ভালো দেখে একটু স্বস্তি পেলাম। সিয়াম দিদির খিচুরি-ডিম ভাজি পেট পুরে খেয়ে আমরা রওয়ানা হলাম আমাদের মূল গন্তব্যে। কিওক্রাডাং। আবার শুরু হলো হাঁটা। গাইড আমাদের আগেই সতর্ক করে দিলো এ পথে জোঁক থাকতে পারে আর বৃষ্টি হওয়ায় পথ বেশ পিচ্ছিল। কিওক্রাডাং যাওয়ার পথে মেঘ আর পাহাড়ের খেলা আরো বেশি জমজমাট আরো বেশি ঘনিষ্ঠ। এক চূড়ায় দাঁড়িয়ে আরেক পাহাড় চূড়ায় মেঘের দুষ্টুমি দেখেতে দেখতে এগিয়ে যেতে থাকলাম। হঠাৎ গাইড আমাদের বললো ‘দেখেন মামা জোঁক কীভাবে লাফাচ্ছে।’ দেখাতে গিয়ে গাইডের পায়েই আটকে গেলো বড়সড় একটা জোঁক । কিছুদূর হাঁটার পর আমরা শুধু ঝোঁপ ছাড়া কিছু দেখতে পেলাম না। গাইড জানালো এ পথেই যেতে হবে। জোঁকের ব্যাপারে আবারো সাবধান করে দিলো। আমরা একেকজন দৌড়ে ঝোঁপটা পার হলাম। এরপর বেশ সমতল আর ঝোঁপঝাড় বিহীন রাস্তা। আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। আরো কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটা ঝর্ণার কাছে এসে পৌঁছালাম। গাইড জানালো অপূর্ব এ ঝর্ণার নাম চিংড়ি ঝর্ণা। ঝর্ণাটি বেশ বড়। পানির ধারাও প্রবল। ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে নিলাম। মনে হলো জুতো খুলে একবার দেখা দরকার। জুতো খুলে দেখলাম ভেতরে দু'টো ছোট ছোট জোঁক কিলবিল করছে! একজন বাদে সবার জুতোর ভেতর দু’তিনটা করে জোঁক পাওয়া গেলো। ব্যাপারটাতে সবাই একটু তটস্থ হয়ে গেলাম। এরপর যতটুকু পথ পার হয়েছি একটু পরপরই জুতো খুলে দেখে নিতাম। পথে আমরা কুমি পাহাড় আর দার্জিলিং পাড়ায় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য দু’বার থামলাম। প্রায় চার ঘন্টা হাঁটার পর গাইড জানালো কিওক্রাডং চূড়া দেখা যাচ্ছে। এবার আমাদের মধ্যে কে আগে উঠবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলো । বেলা ১১টা ১০ জুলাই ২০১০। আমাদের পাঁচজনের প্রত্যেকের জীবনে এ দিন ও ক্ষণটি বিশেষভাবে স্মরনীয় হয়ে থাকবে। এ ক্ষণে আমাদের দলটি পা রেখেছিলো ৩১৭২ ফুট উঁচুতে....কিওক্রাডাং চূড়ায়। সবার প্রথমে রতন। তারপর একে একে রউফ, আমি, জীবন আর মুসা। সে ক্ষণের অনুভূতি যে কী তা আমার মতো লেখালেখিতে আনাড়ি মানুষ ভাষায় বোঝাতে পারবেনা! একেকজন বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তোলা শুরু করলাম। চূড়ায় উঠার পর আকাশ ছিলো রৌদ্রময়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়গুলোকে মেঘ গ্রাস করতে শুরু করলো। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে দেখছিলাম। মুহূর্তেই আমাদের চারপাশটা সাদায় সাদায় ছেয়ে গেলো। মনে হলো মেঘ আমাদের ঘিরে ফেলতে শুরু করেছে । এ যেন প্রকৃতি আমাদের বরন করে নেওয়ার জন্য মেঘ-দূতকে পাঠিয়েছে! একটু পরেই ঝুপ করে নামলো বৃষ্টি । ঠিক দশ মিনিট পর ভোলবাজির মতো বৃষ্টি খেদিয়ে উঠলো রোদ। পনেরো মিনিট ধরে প্রকৃতির এ লীলাখেলায় আমরা বিমুগ্ধ ও হতবাক! এ দৃশ্য মনের ফ্রেমে বন্দী করা ছাড়া কোন ক্যামরায় সঠিকভাবে ধারন সম্ভব বলে মনে হয়না। চূড়ার উপর একটি ইট-সিমেন্টের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। আমরা সেটার উপর উঠে গেলাম। ইচ্ছা ছিলো চূড়ায় উঠে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেবো। তাই উড়িয়ে দিলাম আমাদের অহংকারের লাল-সবুজ নিশান। এরই ফাঁকে রউফ আর কামরুলকে দু’টি বেশ বড় সাইজের জোঁক আক্রমণ করে বসলো। কিন্তু বিজয়ের আনন্দে তখন সকল ভয়, ঘৃণা ম্লান হয়ে গিয়েছিলো। আধঘন্টার মতো চূড়ায় থাকলাম। আমাদের পানি ও খাবারের রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় পাশের মুরং গ্রাম থেকে ভর্তি করে নিলাম। নামার পথে আবারো শুরু হলো বৃষ্টি। থামার কোন লক্ষণ নেই। পুরো কাকভেজা হয়ে আমরা বগা লেক ফিরে এলাম মাত্র দুই ঘন্টায়। সেদিনই বগালেক থেকে চাঁদের গাড়ি করে রুমা বাজারে এসে আবার উঠলাম হোটেল হিলটনে। ততক্ষণে অনুভব করলাম আমাদের সর্বাঙ্গে ভয়াবহ ব্যথা। খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই কিছু পেইনকিলার খেয়ে নিলাম। পরদিন নিরাপদে ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরতে পারলেই সমাপ্তি ঘটবে আমাদের রোমাঞ্চকর এ অ্যাডভেঞ্চারের। যেভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবন যাওয়ার বাস পাবেন। ট্রেনে করে গেলে প্রথমে চট্টগ্রাম নামতে হবে। তারপর বহদ্দারহাট থেকে বাসে চড়বেন। বান্দরবন থেকে বাসে করে কাইক্ষ্যংঝিরি। সেখান থেকে ট্রলারে করে রুমা বাজার। রুমা বাজারে হোটেল হিলটন সহ আরো কিছু চালিয়ে নেওয়ার মত হোটেল পাবেন। গিয়ে অবশ্যই গাইড ঠিক করে নিবেন। গাইডের দিনপ্রতি ভাড়ার পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার খরচ আপনাকে দিতে হবে। শীতকালে চাঁদের গাড়ি করে বগা লেক এমনকি কিওক্রাডাং পর্যন্ত যেতে পারবেন। বর্ষাতেও পাবেন। তবে বগালেক পর্যন্ত। তাও বগালেক যাওয়ার আগেই গাড়ি আপনাকে নামিয়ে দিবে। বাকিটা হাঁটতে হবে। তবে তা ঘন্টাখানেক। চাঁদের গাড়ির ভাড়া মৌসুমের উপর নির্ভরশীল। তবে হেঁটে না গেলে বগা লেক যাওয়ার আসল মজাই পাবেননা। বগালেক হেঁটে গেলে সব মিলিয়ে মাথাপিছু দুই হাজার টাকার বেশি হবার কথা নয়। বর্ষায় খরচ কম। আর বর্ষাকালে বগালেকের মনমাতানো রূপ শীতকালে পাবেননা। বগালেকে গিয়ে সিয়াম দিদির রেস্টহাউজ বা লারামের রেস্টহাউজে উঠতে পারেন। থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা ওখানেই পাবেন। দুঃসাহসী যারা আছেন এ বর্ষায় তারা তবে বেরিয়ে পড়ুন কিওক্রাডাং জয়ে।

You are not a follower
Follow?
This post was billed under the category Travel
 Tags:  কিওক্রাডাং   বান্দরবন   বগালেক   trave