Kothay Tip!!!

Did you know your participation in Blog posts can get you points? Create, Like, and Comment to increase your points!!! Also, get a chance to win exciting prizes by participating in the kothay competition. Click here for more! Register or Sign in now to enjoy!!!





কয়েকটি ছেড়া কাগজের টুকরো ও আমরা...২

Posted by tanjir.omor on on Aug. 10, 2012, 9:29 p.m.  

আমার আগের লিখাটির সাথে এটার খুব একটা মিল নেই, তবু ও নাম দিলাম কয়েকটি ছেড়া কাগজের টুকরো ও আমরা...২, ব্যাপারটা অনেক টা সিনেমার সিক্যুয়েল র মত হয়ে গেল! আসলে আমরা সবাই প্রচলিত ধারার সাথে নিজেদের একাত্ত করতে খুব ভালোবাশি, আমি নিজেও তার ব্যতিক্রম নই! এই লিখাটি অনেক ছন্নছাড়া হবে , তার কারন ২ টি , একেতো আমি গুছিয়ে লিখতে জানি না , দুই হচ্ছে আমার মনের অনেক গুলো বিচ্ছিন্ন ভাবনা শুধুমাত্র সবার সাথে উপল্বধি করার জন্য এই লিখা। আমরা অনেক সময় ই চিন্তা করি , আমাদের জিবনটা পরিপূর্ন(Perfect) না কেন। আমাদের অনেক আফসোস , আমাদের জিবনে এটা নেই কেন ওটা নেই কেন। চাওয়া থেমে নেই, প্রতিমূহুর্তে আমরা একটার পর একটা লালসার পিছনে ছুটছি। এই অন্তহীণ চাওয়া পূরণে হয়তবা অনেক পাপ ও করে ফেলছি , Who cares ?! আমার এটা দরকার , যেকোন মূল্যেই হোক, অনেক টা এইরকম আমাদের মন মানসিকতা এখন! কিন্তু যার জন্যে আমরা দিনরাত ছুটছি তা না হলে কি জিবন টা অর্থহীন হয়ে যাবে ? এভাবে কেন আমরা কখনো ভাবি না? কেন আমরা পারি না আমাদের যতটুকু আছে তা নিয়ে সুখী থাকতে? যা আছে তা নিয়ে থাকলে কি স্ট্যাটাস নষ্ট হয়ে যাবে ?! হায়রে স্ট্যাটাস ! নিজের গায়ে একটা দামি 'Price Tag" লাগাতে না পারলে মনে হয় জিবন মূল্যহীন! আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে এর পিছনে ছুটতে ছুটতে আসীম সুন্দর এই জিবনের কতগুলো অমূল্য মূহুর্ত আমরা হারিয়ে ফেলছি জিবন থেকে?! জিবন একটাই , শেষ তো শেষ। কি লাভ জিবনটা ্যদি উপভোগ না করে মারা যাই স্ট্যাটাস, অর্থ আর প্রাচুর্যের পিছনে দিশেহীন হয়ে দিনরাত ছুটে!? তবে হ্যা যাদের জন্য নিজের গায়ে দামি Price Tag লাগানো মানেই জিবন পরিপূর্ন তাদের কথা আলাদা। আমি যে এত বড় বড় কথা বলছি , আমি নিযেই ত ভুলে গিয়েছি অমূল্য এ জিবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনন্দময় মূহুর্ত গুলো উপভোগ করতে ! :( কতদিন যে সমুদ্র সৈকতে বসে জোছনা দেখি না নিজের ও খেয়াল নেই, কতদিন অঝোর বর্ষায় দু হাত মেলে প্রতিটা বিন্দুর মাঝে ডুব দেই না ?! :( আমাকে ও যে ছুটতে হয় জিবন নামের রেসে ! আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখন এমন যে নিজেকে সব সময় রেসের ঘোড়া মনে হয়। আমাদের চারপাশ আমাদের এমন দানব হিসেবে তৈরী করেছে যে নিযেকে মাঝে মাঝে রেসের ঘোড়া ভাবতে ভালোই লাগে, মনে হয় আর একটু দৌড়াই , তাহলেই ত আমি জিতে যাব! আমার প্রশ্ন হচ্ছে জিবন যদি একটা রেস ই হয়, তাহলে এই রেসের কি কোন শেষ আছে ?ঘোড়দৌড় র তো Finishing line আছে, জিবনের দৌড়ের Finishing line কোথায় ? মৃত্যু ? দু চোখ বোজার পর ই যদি এই রেস শেষ হয় তাহলে কী রেস টা মূল্যহীন হয়ে গেল না?! আমার এই যুক্তির বিপরীতে কেও বলতে পারেন আমি আসলে একজন দুর্বল চিত্তের মানুষ, বাস্তব বাদি নই, আমার মাঝে কোন স্পৃহা নেই , আমার মাঝে এগিয়ে যাওয়ার কোন আগ্রহ নেই! আমি বলবো ভাই এটা আমার জিবন ! আপনি দৌড়াতে থাকেন! আমি একটু দম নিতে চাই! ক্ষতি যদি আমার জিবনের চাওয়া সীমাবদ্ধ হয় জিবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে? কি ক্ষতি যদি আমি দামি Price Tag এ আগ্রহী না হয়ে প্রিয় মানুষ টার মুখ পানে একটু বেশি সময় চেয়ে থাকতে চাই? মানুষ নানাভাবে নিজের নাম পৃথিবীতে ধরে রাখতে চায়। অনেক ভাবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে চায় কালান্তরে । টাকা-পয়সা , নাম সবাই চায়। অনেক ভাবেই অসাধারন হতে চায়। আমি না হয় একটু সাধারন ই হলাম । আমার জিবনটা না হয় একটু সাদামাটা ই হল। তাতে কার কি? সবাই খ্যাতি অন্নেষণে ব্যস্ত থাকুক, আমি না হয় আমার অখ্যাত সাধারন জিবন উপভোগ করেই আনন্দ পাই! এখন আমাদের সবার মাঝে Show Off জিনিস টা অনেক বেশি, ব্যাপারটে অনেক টা এরকম যে Show Off না করতে পারলে রাতের খাবার হজম হবে না ! এই ব্যাপারটু মাঝে মাঝে এতটাই hypocratic হয়ে যায়, অনেক হাসি পায় মানুষের নিজেকে জাহির করার অপচেষ্টায়। নিজের দাপট ধরে রাখার জন্য এই বাচ্চাসুলভ আচরণে নিমগ্ন নির্বোধ মানুষ এটা ভুলে যায় তাদের এই সকল কাজের মধ্যে দিয়ে তারা শুধু হাসির ই পাত্র হচ্ছে।মানুষের অহম এখন এমন আকার ধারন করেছে যে আমিত্ত নামক এক বেড়াজালে মানুষ নিজেকে এমন ভাবে বন্দী করছে যে সে নিজেও জানে না যে এই আমিত্ত তাকে তার চারপাশের মানুষগুলো থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। অনেকে বলতে পারেন আমি এই লিখার মাধ্যমে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছি, আমি বলবো আমি শুধুমাত্র আমার ভাবনা গুলো বন্ধুদের সাথে বিনিময় করার চেষ্টা করছি, কারণ আমি এমন কোন বিখ্যাত মানুষ নই যে হাজার হাজার মানুষ এই লিখা পরে বাহবা দিবে, আমি তা চাই ও না। এতক্ষন অনেক কথাই বকলাম ! সারকথা হচ্ছে , আমি এত জটিল অংক বুঝি না ! আমি সাধারন, আমার জিবন টাও সাধারন, মহত , অসাধারন, দিগবিজয়ী না হয় আমি না , আমি আমার ছোট্ট জিবনটা নিয়েই খুশি থাকতে চাই। জিবনের সময় টা অনেক কম, এই কম সময়ে অসীম বিত্ত আর প্রভাব এর থেকে আমার মনে হয় অন্তর আত্তার শান্তি খুব বেশি দরকার , দিনশেষে হাসিমুখে খুব কম মানুষ ই ঘুমোতে যেতে পারে। আমি সেইসব মানুষ দের মধ্যে একজন হতে চাই।আর এর জন্য আমার মনে হয় না খুব বেশি কিছু দরকার হয়। নিজের মনের মধ্যে থেকে ঘৃণা, কলুষতা, হিংষা,আমিত্ত দূর করে মানুষ কে ভালবাসতে শিখলে মানুষ এর প্রতিদান একদিন দিবেই, ভালোবাসা আমরা একদিন পাবোই, আমিত্তের মাঝে বাঁচার থেকে মানুষের ভালোবাসায় বাঁচা টা অনেক শান্তির, অনেকের গৌরবের। কেউ কেউ আবার এই ভালোবাসা টাকেও বানিজ্যিকিকরণ করে ফেলেছেন , তাদেরকে বলবো, সাময়িক প্রাপ্তির মোহ থেকে বের হয়ে না আসতে পারলে সারাজিবন অশান্তির বিনিদ্র রজনী যাপন করবার জন্য প্রস্তুত হোন! আমিত্ত ত্যাগ করতে পারলে মানুষের মাঝে যেই অসীম সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী হয় তা দিয়ে অনেক অস্মভব কেই সম্ভব করা যায় যা আমিত্ত নামক বাধিতে আক্রান্ত মানুষের পক্ষে কখন ই অর্জন করা সম্ভব নয়। আমরা আমাদের আকাশচুম্বী চাওয়া গুলো কে মাটিতে নিয়ে আসতে পারলেই কিন্ত জিবনের অংক টা অনেক সহজ হয়ে যায়, আমরা আমাদের সাহায্যের হাত তা আর একটু প্রসারিত করতে পারলেই কিন্তু পৃথিবীটা আর একটু সুন্দর হয়,আমরা অযথা সোনার হরিণের পিছে না ছুটে মাটির মানুষ হয়ে থাকলেই কিন্তু দুশ্চিন্তায় এই অমূল্য জিবনের আয়ু কমাতে হয় না , ব্যার্থতাকে অনিবার্য ভেবে হতাশার খোলসে বন্দী না থেকে আর এক পা নিজের লক্ষ্যের দিকে এগুলেই কিন্তু প্রাপ্তির সম্ভাবনা আর একটু বাড়ে।আমার মনে হয় আমাদের জিবন নামের এই রেসের ঘোড়ার লাগাম টা একটু টেনে ধরে , নিজের মনের সকল কলুষতা, লোভ, ঘৃণা মুছে ফেলে জিবন পথে এগিয়ে গেলে আমাদের আত্তা অনেক বেশী তৃপ্ত হবে; আনন্দ পাবে। মনের প্রকৃত শান্তিই ই ত একমাত্র জিনিশ যা কোন অর্থ, প্রভাব, আমিত্ত কিনতে পারে না। এর জন্য দরকার হয় সুখি হবার সাহস। প্রকৃত সুখী !শেষ করব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর একটি উক্তি দিয়ে- "খাবারের অভাবে কোন মানুষ কখনো মারা যায় না, মানুষ মারা যায় আনন্দের অভাবে" ! আমাদের জিবনের সকল ক্ষেত্রে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনন্দ ছড়িয়ে আছে তা যদি আমরা উপভোগ নাই করতে পারি , ছড়ানো ছিটানো সকল উপাদান গুলি যদি এক করে মাটির মানুষ হয়ে বাঁচতে না পারি, তাহলে কি লাভ সারাজিবন রেসের ময়দানে দৌড়িয়ে!? [লিখাটা একান্তই আমার ব্যাক্তিগত মতামত থেকে লেখা এবং সাভাবিক ভাবেই খুবই আনাড়ি হাতে লেখা, ভুল-ত্রূটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী]

You are not a follower
Follow?
This post was billed under the category Lifestyle and Places
 Tags:  philosphy