Kothay Tip!!!

Did you know your participation in Blog posts can get you points? Create, Like, and Comment to increase your points!!! Also, get a chance to win exciting prizes by participating in the kothay competition. Click here for more! Register or Sign in now to enjoy!!!





"কয়েকটি ছেড়া কাগজের টুকরো ও আমরা..."

Posted by tanjir.omor on on Aug. 10, 2012, 9:31 p.m.  

এই লেখাটা আমার কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে, কেন জানি মনে হল সবার মাঝে অনুভূতি টা বিলিয়ে দেই। আমি জানি আমার লেখা খুব একটা ভাল না, ভাল লিখতে হলে খুব ভাল কল্পনা শক্তি থাকতে হয়,সময়ের ছোট ছোট মূহুর্ত গুলো কে অনুভব করতে হয়, বাস্তব কে আলিংগন করতে হয়। আমার মাঝে এর কোনটাই নেই বললেই চলে, তবুও লিখছি, জানিনা কেন, হয়তবা গৌরবের আশায় অথবা নিজের মনকে সান্তনা দিবার জন্য, অথবা নিছকই সময় কাটানর জন্য। বাচ্চাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ধরনের জীবনিশক্তি আছে, বাচ্চাদের সবচে বড় সুবিধা হচ্ছে; ওদের কোন দুঃখ নেই, বেদনা নেই, গ্লানি নেই, হতাশা নেই, জীবনের তাগিদে ছোটার তাড়া নেই, ছোট ছোট ব্যর্থতায় জীবনকে দুঃসপ্ন ভাবার কোন অবকাশ নেই, ওরা যে হারতেই জানে না! রোলার কোস্টার রাইড এর মত জীবনের অজস্র উঠা নামার স্রোত ওদেরকে ছুতেই পারে না। বাচ্চাদের মাঝে আর একটা জিনিস নেই; পাপ । ওদের চারদিকে শুধু পবিত্রতা, স্নিগ্ধতা আর আনন্দ ।রবির প্রথম কিরনের মত। হয়তবা এজন্যই বাচ্চাদের কাছে গেলে একটা অনাবিল প্রশস্তি আসে মনে, মনে হয় জীবনের দুঃখ,বেদনা সব মিথ্যা; এ হাসিটাই সত্যি।ঠিক যেন বৃষ্টির পরের রংধনু। ইশশ….আমি কেন বাচ্চা না???! এখন সকাল ৫ টা বেজে ২৩ মিনিট। আমার দু বছরের ভাগ্নি আসফি, যাকে আমি এবং আমরা সবাই বিল্লি বলে ডাকটেই বেশি ভালবাসি, ও প্রায় প্রতি রাতেই ঘুমোয় না, ! এবং কোন একটা কারনে ও রাতে ওর বাবা মার কাছে থাকে না, আমার সাথে সারা রাত থাকে। একটু আগেই বিল্লিকে ঘুম পারিয়ে ওর বাবা মার কাছে দিয়ে আসলাম।আসার পর এখন আমার ঘুমোতে যাবার পালা।বিছানায় শুতে গিয়ে দেখলাম বিল্লি খুব আনন্দের সাথে কাগজ ইচ্ছামত টুকরো টুকরো করে ছিড়ে রেখে দিয়ে গেছে পুরো বিছানা জুড়ে। এরকম ভাবে কাগজের টুকরো ছিড়ে পরে থাকতে আমি আগেও দেখেছি, কিন্তু আজকের দেখাটাকে কেন জানি একটু আলাদা মনে হল, কেন জানি মনে হল ছেড়া কাগজের টুকরোগুলো আমাকে কিছু বলতে চায়, ওরা যেন জীবন নিয়ে আমাকে ডাকছে; আমাকে জীবন দেখাতে চাচ্ছে।! আমাদের জীবন কখনই এক নয়, আজকে অনাবিল হাসি, কালকে হয়তবা শোকের আহাজারি। অনেক ছোট ছোট বেদনা, কান্না, ঠাট্টা, হাসি-তামাশা, জয়-পরাজয়, অর্জন-বিসর্জন এসব একসাথে করেই আমাদের জীবন। এসবই আমাদের জীবনের অনিবার্য অংশ। এরা না থাকলে জীবন গড়ে উঠবে না, পূর্নতা পাবে না।কিন্তু এই উপাদান গুলো কখন ই একসাথে আসে না, আসে খন্ড খন্ড সময়ের আবরণে । হয়তবা কোন উপাদান একটু বেশিদিন থাকে, আর কোনটা একটু কম থকে; কারো জন্য হয়তবা একটু তাড়াতাড়ি কারো একটু দেরীতে, কিন্তু সবগুলো উপাদান আসবেই ; কারো জন্য হয়তবা একটু বড় হয়ে আসবে, কারো জন্য একটু ছোট। আমাদের জীবনটা ওই ছেড়া কাগজের টুকরো গুলোর মতই। এক একটা কাগজের টুকরোতে জীবনের এক একটা অংশ লুকোন আছে।সবগুলো টুকরো এক হলেই জীবন।হয়তবা আমাদের কাজই হল এই টুকরো গুলো এক করা। হয়তবা আমাদের কাছে এখন যেই কাগজের টুকরোটি রয়েছে তার নাম “গ্লানি”, হয়তবা আমরা অনেক সময় ধরে এই টুকরোটি নিয়ে আছি, কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে “বিজয়” লিখা কাগজের টুকরোটি আমরা কখনই খুঁজে পাবো না। সবগুলো উপাদানই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কিন্তু “বিজয়” নামের টুকরোটিকে খুজে পাওয়ার জন্য আমাদের ওই পর্যন্ত যেতে হবে , ধৈর্য,শ্রম আর ত্যগের বিশাল পথ পাড়ি দিতে হবে। বিধাতাকে দোষ দিয়ে আর নিজের ভাগ্যকে অভিশাপ দিয়ে বসে থাকলে কখনই জীবনের উপাদান বদলানো যাবে না, এর আগে আমরা কি কখন ও ভেবেছি যে আমরা নিজেরা নিজেদের জীবনকে সুন্দর করার জন্য কি করেছি? যা করেছি তা যথেষ্ট কি না অথবা যা করেছি তাতে “সুখ” প্রাপ্য কি না???? হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে ব্যর্থতার ক্লান্তিতে ডুবে থেকে আমরা যত সময় পার করছি, ততই নিজের প্রতি অবিচার করছি আমরা, অবিচার করছি বিধাতার দেয়া অমূল্য এ জীবনের প্রতি যা একবার ই পাওয়া যাবে। প্রতিটি মূহুর্ত চলে যাচ্ছে আর অন্ধকার কাছে আসছে। সবগুলো কাগজের টুকরো এক করার সম্ভাবনা ও নাই হয়ে যাচ্ছে। ওদেরকে যদি এক করতে নাই পারি, জীবন কে যদি পূর্নতা দিতে নাই পারি তাহলে বেঁচে থাকার মূহুর্ত গুলো অর্থহীণ হয়ে গেল না???

You are not a follower
Follow?
This post was billed under the category Lifestyle and Places
 Tags:  philosophy